ডক্টর সুমনা সেন ।পেশায় ডাক্তার আর নেশায় গবেষক । দেশের প্রথম দশজন মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ । হসপিটাল থেকে ফ্ল্যাট আর ফ্ল্যাট থেকে সেমিনার – দেশে বা বিদেশে । মোটামুটি এভাবেই চলছে ।
বস্তুত সেন পরিবারের চলার ধরনই এরকম। বাবা, কাকা, জ্যাঠা, ভাই বা বোনেরা প্রায় সকলেই ডাক্তার বা প্রফেসর। বাড়ী আর হোটেল - দেশ আর বিদেশ - তাদের কাছে প্রায় সমান।
প্রায় তিন
দিন টানা ডিউটির পর আজ সকালে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরলেন ।
সারাদিন ঘুমিয়ে বিকালে ব্যাল্কনিতে বসে চা খেতে খেতে রাস্তার অন্যদিকের রেস্তোরাটা দেখছিলেন । নতুন হয়েছে। হেরিটেজ টাইপ মডেল। বেশ ভিড় । । একদম অভিজাত এলাকা। নানা ধরনের লোক আসছে। তবে মুলত অল্প বয়সী কাপলদের পরিমান ই বেশী।
স্বামী পাশে নেই। সে অকাল বিধবা। হতভাগ্য স্বামীর কথা মনে আসতেই একটু ভার লাগলো নিজের । কারন ক্যারিয়ারের শিখরে থাকা তিরিশ বছরের
সুমনার না ছিলো সে সময় বিয়ের জন্য তেমন কোন প্ল্যানিং আর না সে ভেবেছিলো যে , কয়েক বছরেই স্বামীকে হারিয়ে সে বিধবা হবে ।
যে কোন কারনেই
হোক – বিয়েটা তাও হয়েছিলো ।
পাত্র হিসাবে অনয় খারাপ নয় । পুলিশের ভালো লেভেলের অফিসার । ফ্যামিলিও ভালো ।অনয়ের বাবাও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার । বেশ নাম আছে । আসলে পুরো পরিবারটাই কেমন একটা পুলিশের ব্যাচ লাগানো। অয়নের ঠাকুরদাদা ছিলেন ব্রিটিশ পুলিশের লোক। বাংলায় বলে পুলিশের চর বা টিকটকি। বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়ে টাকা করেছিলেন। বলতে গেলে সাহেবদের খাস লোক।
আগে এতো পরীক্ষার ব্যাপার ছিলোনা। ফলে বংশে অনেকেই সিস্টেম মেনেই পুলিশের চাকরিতে আসে। তার ওপর সেই তোষামোদি রক্ত। ফলে গুছিয়ে নিতে অসুবিধা হয় নি।
তবু কোথাও একটা ফাঁক থেকে যায় । সুমনাদের পরিবারটা কিছুটা ব্রান্ড প্রোডাক্টের মতো । অয়নের পরিবারে টাকা আছে, ক্ষমতার অলিন্দে মেশার দম্ভ আছে। কিন্তু কোথায় এসে একটা গোলমাল লাগে। সেটা হতে পারে দুই পরিবারের একেবারে ভিন্ন মেরুতে থাকা সামাজিক অবস্থান।
অনয় নিজেও যথেষ্ট ভালো পজিশনে আছে । বাবা কাকাদের মতোই। তাও একটা কিন্তু থেকেই গেছিলো ।
আসলে সব্ কিছু বিচার করলে হয়তো অনয়ের সাথে সুমনার বিয়েটা হতোনা । কিন্তু তবু বিয়েটা হলো । নিতান্ত হিসাব করেই হলো ।এই বিয়েতে সুমনার একটাই লাভ ছিলো । ডিউটিতে ডিউটিতে দিন কাটানো স্বামী তার মুল্যবান ক্যারিয়ারের থেকে বেশি সময় চাইতে পারবে না ।
স্বামী নিশ্চই আলাদা বাংলোতেই থাকবে। ফলে অনয়ের পরিবারের ঝামেলা তার থাকবে না। মোদ্দা কথা, পুলিশ অফিসার স্বামী একটা পরিচয় দেবার মতো স্ত্রী পাবে। সুমনার টাকাও তো পাবেই। সে সব ভাবলে অনয়ের দিক থেকে শুধুই
লাভ আর লাভ ।
কিন্তু সুমনার?
না তার কোন লাভ নেই। লাভের কথা ভেবে বিয়ে করার মতো পরিবারে সে জন্মায়নি। তার লাভ বলতে নিজের পেশাতে মন দিয়ে কাজ করা।
নতুন বিয়ে – নতুন
সংসার – নতুন পরিবার ।বেশ ভালো । মেয়েদের স্কুলের সামনে বেচা ফুচকার মতো টক-ঝাল-মিস্টি
একাকার । কিন্তু মাত্র মাস তিনেক ।
অনয়ের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার । ডাক্টার বৌমাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন । অবসর পেলেই সুমনার সাথে এসে বাবার মতোই গল্প করতেন । গল্পের বিষয় প্রায় একই। কত্তো বড়ো অফিসার ছিলেন, কত্তো কি করেছেন - এই সব। গল্পগুলো সুমনার প্রায় মূখস্ত হওয়ার মতো। শ্বশুর তাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন।
কিন্তু প্রবাদ আছে - রক্ত কথা বলে। দিন দিন ভালোবাসাটা একটু বেশি হয়ে গেছিলো আর সেটা বুঝতে একজন সাইক্রিয়াটিস্টের ভুল হওয়ার কথা নয় ।
সুমনা রোগী সামলানোর
মতো চলছিলো । এগুলো ভাবতে তার খারাপ লাগে – কিন্তু কস্ট হয়না । পারভারশান । বাংলায় বলে -বহুগামীতা । আপন পর বিচার থাকেনা আর বয়সের সাথেও যৌন চাহিদা কমেনা ।
কিন্তু এরপর আস্তে আস্তে কস্ট শুরু হলো ।অনয় বাড়ী আসলেই নোটের বান্ডিল নিয়ে আসতো ।মনে হচ্চে যেন সম্রাট নেপোলিয়ন যুদ্ধ থেকে ফিরেছে । কাড়ি কাড়ি টাকা । অনয় , তার বোন , বাবা , মা – লোভী , হিংস্র পশুর মতো শুধু টাকা দ্যাখে । এরা মানুষ ? কিসের টাকা - কতো টাকা কেউ জানেনা?
জানে - আসলে টাকার একটা রোগ আছে। তার গায়ে কোন দাগ থাকেনা।
পুরো পরিবার শুধু টাকা চেনে - অনয়ের বাবা ছেলের উপরির টাকার গন্ধ নিয়ে আরামে চোখ বোজে ।
সুমনা এখন বুঝতে
পারে যে , অনয় শুধু লোভী নয় । সে নিষ্ঠুর ধর্ষক , লম্পট আর শয়তান । নিজের বৌ এর সাথে
বিছানায় থেকে একবার সুমনার মায়ের নাম – একবার নিজের বোনের নাম নিতে নিতে সে নিজেকে
হালকা করে ।
কোন ভদ্র ঘরের মেয়েই এই পরিবারে থাকার মতো নয় । এখানে মুখোশের মেলা ।
সুমনার সিদ্ধান্ত
তো নিতেই হতো ।কিন্তু সেটা আরো আগে নিতে হলো ।সে মজা করার জন্য স্বামীকে তার প্রেগন্যান্সির
খবর দিতেই বাড়ীতে অশান্তির ঝড় উঠলো ।
আমি এই সন্তানের বাবা নই -
– তাহলে কে ?
তোমার নিজের ভাই ।
জাস্ট শাট আপ - সুমনা সাপের মতো ফণা তোলে । নরকের কীট কোথাকার । যতোসব বেজন্মা ।
কি বললি ? আমি বেজন্মা ?
সুমনা কিছু বোঝার আগেই সপাটে একটা চড় এসে পরে তার মুখে । নিমেষের মধ্যে সুমনাকে গলা টিপে অনয় বিছানায় ফেলে ।
" বাজারের মেয়েছেলে কোথাকার ? তুই কি ভাবিস আমি কিছু বুঝিনা ? তোর কিসের ডিউটি থাকে রাতে ? "
সুমনার দম আটকে আসে - অনয় ওর গলাটায় চাপ বাড়াচ্ছে আর সাপের মতো হিংস্র হয়ে উঠছে ।
এই " **কি " - তুই নিজেই বল , কয় রাত তুই আমার বিছানায় থেকেছিস ? বাজারী মালের মতো রাতে ডিউটির নাম করে বাইরে থাকিস ।"
সুমনা অনেক পরে কোনমতে নিজেকে ছাড়ায় । দম আটকে গেছে । কিন্তু দম আটকানো নয় - অনয় চাইছে আজ সুমনার দমটা বেরিয়েই যাক । সারাদিন অনয়ের কাটে খুনী , দালাল , বেশ্যা নিয়ে । সুমনাকে সে চিনে ফেলেছে । এই লোক চেনার কাজে অনয়ের ভুল হবার কথা নয় ।
*লের ডাক্তার ।
সুমনা একটু ধাতস্থ হয়ে চিৎকার করে ওঠে - একটা ডাক্তারকে বিয়ে করার সময় মনে ছিলোনা ?
চুপ কর । আমি কিছু জানিনা ভেবেছিস ?
আমায় আগে বল , তোর ভাই এখানে কেন আসে ?
মানে ? আমার ভাই আমার কাছে আসতে পারবে না ?
হ্যা , সে তো আসবেই - তোর কাছে আসবে , তোর বিছানায় আসবে - আমি কিছু জানিনা ভেবেছিস ?
তোর পেটে আমার নয় - তোর ভাইয়ের বাচ্চা ।
কয়েকদিন পর । অনেক হয়েছে –
এ একটা বদ্ধ পাগল । পাগলের চিকিৎসা করা আর পাগলের সা সংসার করা এক নয় ।
ক্রিটিকাল বাইপোলার
ডিস অর্ডার ।প্রতিক্ষেত্রে চরিত্রের পরিবর্তন হয় । কখন কোন চরিত্রে চলে যায় , নিজেরাই
জানেনা । হ্যালুসিনেসন হয় । যেটা যা নয় , তাই দ্যাখে । নানারকম শব্দ শোনে । একটা অবান্তর
কল্পনার জগতে চলে যায় আর সেটাকেই চরম সত্যি বলে মনে করে ।ইউফোরিয়া । আবার স্বাভাবিক ও হয়ে যায়
।একদিকে তীব্র হতাশা আর একদিকে অবান্তর আশা । সত্যি-মিথ্যা বিচার বোধ থাকেনা । রোগটা কিছুটা জেনেটিক ।
ক্রমাগত চরিত্র
বদল হয় । তখন আগের মানুষের থেকে একেবারেই আলাদা
। আর এটাই আসল রোগ ।নানা কারন থাকতে পারে । তবে বেসীরভাগ ক্ষেত্রেই পারিবারিক সুত্র থাকে ।
বিশ্বের বেশিরভাগ
সিরিয়াল কিলার এই রোগের শিকার ।
সুমনা নিজের বাবার
বাড়ীতে বসে বসে ডিভোর্সের পাশাপাশি আরো একটা কথা ভাবছিলো । নিজের ওপরেই ঘেন্না আসছে
। বিয়ে –সংসার তো পরে । তার আগে তো সে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ । তার কি বোঝা উচিত
ছিলোনা বিয়ের আগে ? নাকি তারও মাথা গেছিলো ? একটা পরিবার। প্রায় সকলেই মানসিক রোগী ।সে কিছুই বুঝলো না ?
চিন্তা কেটে যায়
।ফোন বাজছে । অনয়ের বোন।
বউদি – যেখানে
থাকো , আর্জেন্ট বাড়ী এসো । দাদাকে এখনি হাসপাতালে নিতে হবে । ওর কলিগ অ্যাম্বুলেন্সে আসছে
।
আরে কি হয়েছে
? হটাত কি হলো ? অল রাইট । আমি আসছি । কিন্তু হয়েছে কি ?
কিছু বুঝতে পারছিনা
। বলছে মাথার যন্ত্রণা আর বমি হচ্চে।মুখ দিয়ে রক্ত আসছে । তুমি এখনি এসো ।
ওয়েল , শোন ,
তোমরা ওকে নিয়ে হসপিটালে নিয়ে এসো – আমি সরাসরি যাচ্ছি ।
সুমনা সোজা হসপিটালে
।
অনয়কে ভর্তি করা
হলো ।
মুখে মদের ঝাঁজ ।
সে মনে মনে ঝাড়তে থাকে । মাতাল কোথাকার ।
মাথার যন্ত্রণা
– প্রেসার হাই –সাথে বমি আর তীব্র শ্বাসকষ্ট ।
অনয় নিজে হাই প্রোফাইল অফিসার । ফলে সবই তার হাই প্রোফাইল । আসল রোগ টাও হাই প্রোফাইল । তবে এখন ট্রিটমেন্টে সাড়া দিচ্ছে । দুদিনেই সুস্থ । কিন্তু ডাক্তার ডিসচার্জের সময় যা বললো সেটার জন্য সুমনা রেডি ছিলোনা । তবে অনয়ের পরিবারের সকলেই ছিলো - তাই পুরো চাপটা তাকে নিতে হয়নি।
“ রোগী এমনি ভালোই
আছেন । কিন্তু ডক্টর সেন , আপনার স্বামী বলেই , আমরা একটু নিশ্চিত হতে চাই । জাস্ট
একটু আলোচনা করে নেওয়া । ভালো হয় , আপনারা কোন ক্যান্সার স্পেশালিষ্টের সাথে একটু কথা
বলে নিন । আমি নিশ্চিত রোগীর তেমন কিছুর কোন সম্ভাবনাই নেই – কিন্তু তাও একবার ।
ওকে ওকে ।
দিনের শেষে সুমনার
নিজের স্বামী । সে এটা শোনার কথা ভাবেনি । যদিও তেমন কিছুইনা – সে নিজে এরকম সাজেশন
হাজারটা দেয় । কিন্তু সাজেশন দেওয়া আর সাজেশন শোনা এক নয় । আবার সেই আবেগ । এখন তার
নিজেরই কাউন্সেলিং দরকার । কিন্তু কোন অপশন নেই । মাথা শেষ । অনয়ের বোনই নিজে সই সাবুদ করে রোগীর ডিসচার্জ নেয়
।
কঠিন সময় । সুমনা শ্বশুরবাড়িতেই ফিরল । দুদিন কাটলো । অনয়ের যন্ত্রণা মাঝে মাঝেই ফিরছে । যখন যন্ত্রনা আসছে - অবস্থা বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রেশার, ব্রিদিং প্রবলেম আরো নানা ইস্যু।
একে অনয় একটা
কঠিন মানষিক রোগের শিকার । তার ওপর এই অবস্থা । সুমনা একদিকে স্ত্রী –অন্যদিকে ডাক্তার
। প্রায় কেবিনের মতো সে অনয়কে খেয়ালে রাখলো ।
নাহ- ভালো নয়
। অনয়কে মানসিকভাবে বোঝাতে হবে । ক্যান্সার হওয়া আর মরে যাওয়া এক নয় । ক্যান্সারের
ডাক্তার দেখানো মানেই ক্যান্সার হয়ে যাওয়া নয় ।
বেশিরভাগ লোকই
রোগের নামেই বেশি ভয় পেয়ে যায় । অনয় নিশ্চয়ই বুঝবে । সুমনার কাউন্সেলিং-এ অনয় অনেকটাই মানিয়ে নেয় । এই অনয় একেবারে নিরীহ , শান্ত , বাঁচতে চাওয়া এক যুবক ।
আরো দু-একদিন
কথা বলে মনে হলো , অনয় কিছুটা ধাতস্থ হয়েছে ।সে ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রস্তুত ।
কিন্তু এরই মধ্যে
সুমনাকে যেতে হবে চেন্নাইতে । একটা খুব জরূরী সেমিনার । যেতে হবে মানে যেতেই হবে ।
যদিও মাত্র দুদিনের । এখানে অনয়ের চিকিৎসার সব ব্যাবস্থাই আছে । রোগীর অ্যাম্বুলেন্সের
আগে অনয়ের কনভয় যায় । তাছাড়া অনয়ের বোনও যথেষ্ট সাবলীল ।
সুমনা চেন্নাইতে
। তার বোন আর তার কলিগরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে ।
চাইলে সে নিজেও
ডাক্তার সেনকে ফোন করতেও পারতো ।কিন্তু নিজের কেসে নিজের একটা ভয় থেকেই যায় । অনেকরাতে
হোটেলে ফিরে সে অনয়ের বোনকে ফোন করলো ।
সবই ঠিক আছে ।
ডক্টর সেনও প্রায় একই কথা বলছেন । চিন্তার কোন কারনই নেই –শুধু নিশ্চিত হওয়ার জন্য
কিছু টেস্ট । অনয় ওষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে । সুমনার মুখে একটু হাসি আসলো । লোকটা যেমনই হোক
– দিনের শেষে তার স্বামী । আর একজন রোগীও।
ভালো হলেই তো ভালো ।
সুমনা বেশ কয়েকদিন
পর একটু শান্তিতে ঘুমাবে । এই কদিন অনেক চাপ গিয়েছে ।
সকাল প্রায় দশটা
। সুমনা চোখ খোলে । অভ্যাসমতো মোবাইলে নজর । সাইলেন্ট করা ছিলো ।
রাবিশ --- প্রায়
৩০ টা মিসকল ।
মা , বাবা , অনয়ের
বোন –কারো ফোন বাদ নেই । সে পর পর রিংব্যাক করতেই থাকে । ব্যাস্ত –ব্যাস্ত –ব্যাস্ত
।
জাস্ট গতকাল রাতেই
অনয়ের বোনের সাথে কথা বলে সে নিশ্চিত হয়ে একটু ঘুমানো । আর তার ভিতরে এতো ফোন ।
বিছানায় বসে মাথা
খারাপ হচ্ছে । কারো ফোন লাগছে না । এতোবার তাকে ফোন করেছে সব – কিন্তু এখন তার ফোন
ধরার কেউ নেই ।সবকটা অপদার্থের দল ।
অনয়ের বোনের ফোন
ব্যাক ।
হ্যালো –হ্যালো
– পনেরো থেকে কুড়ি সেকেন্ড । সুমনা বিছানায় বসে পড়ে ।
জাস্ট ভাবতে পারেনা
।প্রায় পনেরো মিনিট মতো হয়ে গেছে । ফোনটা ফ্লোরে পড়ে আছে । স্ক্রীন ফেটে গেছে । চুলোয়
যাক । ঝড়ের গতিতে নিজে রেডি হতে হতে হোটেল ম্যানেজারকে দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট বুক করায়। সুমনা
আকাশ থেকে কোলকাতার মাটিতে নামছে ।
অনয়ের বাইপোলার
ডিস অর্ডার । এক্সট্রিম হ্যালুসিনেশন হয় । এরা একসময় খুনও করতে পারে আবার নিজেরাও হতাশ
হয়ে যেতে পারে । অনয়ের ক্ষেত্রে সুমনা এই ভয়টাই পেয়েছিলো । আর তাই নিজে পাশে থেকে কেয়ারও
নিয়েছে । কিন্তু ...............
অনয়কে সে রেগুলার
কাউন্সেলিং দিয়েছে । এই দুদিনের না থাকাটাই কি ফ্যাক্টর হয়ে গেলো ?
প্রায় দেড় বছর
হয়ে গেলো ।
ব্যালকনিতে বসে মিসেস সুমনা সেন সিগারেট ধরালো ।
মোবাইল বেজে উঠলো । অনয়ের বোন ফোন করেছিলো ।
“ বৌদি – আমাদের
অনেক বড়ো ভূল হয়ে গেছিলো । দাদার কোন রিপোর্টই আমরা নিজেরা একবার খুলে দেখিনি “
মানে ?
মানে কিছুনা
– আমরা শুধু ক্যান্সারের ব্যাপারেই ভেবেছি – আর দাদা ওটাতেই ভয় পেয়ে আত্মহত্যা করেছিলো
। আজ ওর লেখা একটা ছোট নোটবুকে কয়েকটা লাইন লেখা দেখলাম । ও মারাত্বকভাবে ভয় পেয়ে গেছিলো
। ওর বাঁচার অনেক ইচ্ছা ছিলো - কিন্তু ভয়েই ......
কি সব বলছো ?
তা কি করে হয় ? ক্যান্সারের জন্য কিছু টেস্ট করতে বলেছিলেন ডাক্তার । তুমি নিজেই তো গিয়েছিলে । আমি তো চেন্নাইতে ছিলাম
। টেস্টই হয়নি – তার কিসের রিপোর্ট ?
সেই টাই তো বলছি ।
ক্যান্সারের রিপোর্ট নয় ।
সেগুলোর তো টেস্টই হয়নি । তার আগেই তো ............
তাহলে কিসের রিপোর্ট ?
দাদাকে হসপিটাল থেকে ছাড়ার সময় যে রিপোর্ট ডাক্তার নিজে দিয়েছিলো ।
মানে ? আমরা তো
সকলে একসাথেই ছিলাম – আমার মাথা কাজ করছিলোনা – তুমি তো পেশেন্ট রিসিভ করেছিলে ?
হ্যা – বৌদি ।
আমিই সব করেছিলাম । কিন্তু আমরা কেউই দাদার রিপোর্টগুলো একবারও দেখলাম না কেন ?
হ্যা – তা হয়তো
দেখা হয়নি । কিন্তু কি আছে ?
বৌদি দাদার তেমন
কিছুই হয়নি – কেন আমরা তখন পেপারগুলো দেখলাম না ?
সুমনার মাথা কাজ
করছিলো না । কি শুনছে এসব ?
দাদার মাথার যন্ত্রণার
কারন ছিলো সাধারন স্পন্ডেলাইটিস ।
কি সব বলোছো
? তুমি নিজে তো অনয়কে ডক্টর সেন এর কাছে নিয়ে গেছিলে আমি চেন্নাইতে থাকাকালীন ?
হ্যা তো । কিন্তু
সেখানেও কোন টেস্টই লেখেনি তেমন । সব মামুলি । আমাদের ভুল হয়ে গেছে- আমরা কেউই দাদার
একটা পেপারও নিজেরা দেখিনি ।
সুমনা সিগারেটে
টান দিয়ে ভাবতে থাকে , “ রিপোর্ট কেউই দেখেনি – এটা ভুল । কারন সে নিজে তো সবই দেখেছিলো
। “
রাবিশ – " পাগলের
চিকিৎসা করা যায় – কিন্তু সংসার নয়" ।
Prolaysankardeysvo
Blog links
মিসেস সেন (১৮+ বাংলা গল্প)
https://prolaysankardeysvo.blogspot.com/2024/05/blog-post.html
Man in the mirror- A tribute to michael jackson
https://prolaysankardeysvo.blogspot.com/2023/03/man-in-mirror-tribute-to-michael-jackson.html
The paradox of real love and divine love
https://prolaysankardeysvo.blogspot.com/2023/02/paradox-of-real-love-and-devine-love.html
The last ride together
https://prolaysankardeysvo.blogspot.com/2022/10/the-last-ride-together-by-robert.html
youtube
Karma-psvo
https://youtu.be/Dm8HFNR9WrI
https://youtu.be/SSbQd2u2oj4
Myplanet-psvo
https://youtu.be/FI92YS_n8o0
https://youtu.be/m1EWIQ5MTVg
Darklife-psvo
https://youtu.be/Bz0N_OKSe7g
https://youtu.be/jf48fad5q_o
0 Comments